Wednesday, 23 November 2011

আত্মীয় রাহুগ্রাসে পিএসসি


আসাদুজ্জামান সাগর

ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়কুলের রাহুগ্রাসে বন্দি এখন সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে ব্যাপক আত্মীয়করণ। বড় পদ, ছোট পদ—সব ক্ষেত্রেই স্বজনদের ছড়াছড়ি। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও এমপিসহ সরকারি দলের প্রভাবশালীদের আত্মীয় এবং অনুগতরা ছাড়া এ সংস্থায় এখন অন্য কারও ঠাঁই নেই। কমিশনে বর্তমানে ১৪ সদস্যের ১৩ জনই দলীয় অনুগত ও প্রভাবশালীদের আত্মীয়। সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ও জনতা মঞ্চের রূপকারও আছেন কয়েকজন। পিএসসির সদস্য হয়েও সর্বেসর্বার আসনে আছেন আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. এমরান কবির চৌধুরী। তত্ত্বাবধায়ক সময়ে নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানসহ সরকার সমর্থক বাদে অন্যরা প্রচণ্ড চাপ এবং কোণঠাসা হয়ে আছেন। দাবড়ে বেড়াচ্ছেন সরকার সমর্থকরা।
সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দিলেও তাতে অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসে সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও সরকারি দল থেকেই। নিয়োগের পর তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয় অদৃশ্য কোনো শক্তিবলয় থেকেই। অথচ হাইকোর্টের রুলিং অনুযায়ী এসব ব্যক্তির কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই।
প্রতিষ্ঠানটির এমন দুরবস্থায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞজনরা। বিশিষ্ট সমাজচিন্তক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক সাবেক কেবিনেট সচিব ড. আকবর আলি খান বলেছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুনাম ছিল তা আমি কখনোই শুনিনি। কমিশনে দলীয় ও আত্মীয়করণ, সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর পরীক্ষা পদ্ধতি, ৪০ বছর আগের কারিকুলাম, চাকরির নিয়োগ দুর্নীতি প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিএসসিতে আগের সরকারগুলোও দলীয়করণ করেছে। তবে বর্তমান সরকার যেভাবে একে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ করছে, তাকে নগ্নই বলা যায়। তিনি বলেন, কমিশনের সদস্যদের নিয়োগের যোগ্যতা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার কোনো মাপকাঠি সংবিধানে নেই। সরকার ইচ্ছা করলেই নিয়ম ও আইন করে দিতে পারে; কিন্তু কোনো সরকারই তা করেনি।
কে কার আত্মীয় এবং দলীয় : পিএসসিতে পূর্ণ প্যানেলের ১৫ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে ১৪ জন রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট পিএসসি সূত্র এবং অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব সদস্যের মধ্যে ১৩ জনই আত্মীয় ও দলীয় অনুগত। সদস্যের জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন অধ্যাপক রাশিদা বেগম। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের বড় বোন। ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ তিনি পিএসসিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর চাচাতো ভাই। আর আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। ২০০৯ সালের ৯ এপ্রিল সেরনিয়াবাত পিএসসিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি প্রশাসনের ভুতাপেক্ষ যুগ্ম-সচিব ছিলেন। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার আসামি ছিলেন সেরনিয়াবাত। ২০০১ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো এ মামলা করেছিল। বর্তমান সরকারের সময় তিনি সে মামলা থেকে খালাস পান।
অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী যুবলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল তিনি যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বিসিএস পরীক্ষা ও নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। টাকা নিয়ে চাকরি না দেয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তার বাসায় হামলাও করেছিল ছাত্রলীগ।
পিএসসির আরেক সদস্য এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী। কথিত আছে, তিনি ১৯৯৬ সালে সচিবালয়ের সামনে জনতার মঞ্চের অন্যতম রূপকার ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৩ জুন যোগদান করেন। এর আগে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি ছিলেন। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইনকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে তার নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তিনি এজন্য রাষ্ট্রপতির কাছে ‘কর্ম কমিশনে স্থবিরতা’ শীর্ষক চিঠি দিয়েছিলেন।
সৈয়দ হাসিনুর রহমান সাবেক প্রভাবশালী আমলা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের আপন ভাগ্নে। ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই যোগদান করেন। এর আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
ইকরাম আহমেদ সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগ এমপি তারানা হালিমের বোনজামাই। ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই তিনি যোগদান করেন। এর আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
অধ্যাপক ডা. ফরিদা আদিব খানম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আপন ভাগ্নি। তিনিও ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই যোগদান করেন।
আওয়ামী লীগের অনুগত আরেক পিএসসি সদস্য মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান। কথিত আছে, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ এবং জনতার মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর যোগদান করেন। এর আগে তিনি কারা মহাপরিদর্শক ছিলেন।
মো. ওয়াজেদ আলী খান প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত। ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি যোগদান করেন। এর আগে তিনি অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
ড. ফখরুদ্দীন-মইন উ আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বাকিদের ব্যাপারেও দলীয় ও আত্মীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। মো. নুরুন নবী আওয়ামী লীগের অনুগত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে পরিচিতি রয়েছে। অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম পিএসসি চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইনের কাছের লোক বলে ওই প্রতিষ্ঠানে পরিচিতি আছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবিদুর রেজা খান সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ। এহসান শামীম পিএসসি চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইনের দূরসম্পর্কীয় আত্মীয় বলে পরিচিত। এছাড়া কমিশনের সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান সরকারের অনুগত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। জানা যায়, গোপালগঞ্জ কোটায় তিনি কমিশনের সচিব হন।
কোণঠাসা বর্তমান চেয়ারম্যান ও তার অনুগতরা : আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নানা কারণে কোণঠাসা বর্তমান চেয়ারম্যান ও তার অনুগতরা। দলীয় নিয়োগ, ২০০ নম্বরের ভাইভা পরীক্ষা, কোটা পদ্ধতি সংস্কার—এসব বিষয়ে সরকার এবং কমিশনের মধ্যে দ্বিমত হয়। পরীক্ষা, প্রশ্ন পদ্ধতি, খাতা মূল্যায়ন, মান উন্নয়নে কমিশনের উদ্যোগের বিরোধিতা করছে সরকার অনুগত সদস্যরা। এছাড়া সরকার সমর্থিত সদস্যদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজশে বিসিএস ভাইভা বোর্ডে দলীয় অনুগতদের কিংবা লেনদেনের বিনিময়ে বেশি নম্বর দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব কারণে চেয়ারম্যান সা’দত হোসাইন তাদের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়ান। তাকে সরিয়ে দিতে একাধিকবার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দিতে এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী রাষ্ট্রপতির কাছে ‘কর্ম কমিশনে স্থবিরতা’ শীর্ষক চিঠি দিয়েছিলেন।
এছাড়া কমিশনের সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান একটি প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশন একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছেন। কমিশনের মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তাতে বাধা সৃষ্টি করছেন তিনি।
সরকার সমর্থকদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে একটি বাস্তব কেস স্টাডি হয়। সূত্র জানায়, সম্প্রতি ৩০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ২ হাজার ৩৬৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে জেনারেল ক্যাডারে এক প্রার্থী খাদ্য ক্যাডার পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, ওই প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে ৬৮৫ নম্বর অবস্থানে ছিলেন। এ টি আহমেদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ভাইভা বোর্ডে তাকে ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৭৮ নম্বর দেয়া হয়। এত বেশি নম্বর দেয়ায় ওই প্রার্থী মেধাতালিকায় এগিয়ে গিয়ে খাদ্য ক্যাডার পেয়েছেন। অন্যদিকে ভিন্নমতের প্রার্থী অনুমান করতে পারলে তাদের নম্বর কমিয়ে দেয়া এবং মানসিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সম্প্রতি প্রশ্নপত্র এবং খাতা মূল্যায়নের মান উন্নত করতে কমিশন চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিলেও তা নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সূত্র জানায়, সদস্য মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত এর বিরোধিতা করে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করছেন।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ : কে হচ্ছেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান, তা এখনও স্পষ্ট না হলেও সরকারের পছন্দের ব্যক্তি যে ওই পদে আসছেন তাতে সন্দেহ নেই। গুঞ্জন রয়েছে, সদ্যবিদায়ী কেবিনেট সচিব আবদুল আজিজকে পিএসসি চেয়ারম্যান করা হতে পারে। দৌড়ে পিছিয়ে থাকলেও পিএসসি’র সদস্য মোহাম্মদ সেরনিয়াবাত ওই পদে বসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ঢাবি সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নামও শোনা যাচ্ছে।
নামেমাত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান : ১৯৭২ সালে গঠিত পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে কর্ম কমিশনের কথা বলা হয়েছে। ১৩৭ থেকে ১৪০ অনুচ্ছেদে পিএসসি’র গঠন, চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ, পদের মেয়াদ এবং কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত আছে। ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘প্রত্যেক সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।’ ১৩৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতির আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে। এছাড়া ১৩৯ (১), (২), (৩) ও (৪) অনুচ্ছেদে কর্মকমিশনের সভাপতি বা অন্য কোন সদস্য তাহার দায়িত্ব গ্রহণের বয়স, মেয়াদ, অপসারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। ১৪০(১) অনুচ্ছেদে কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘১৪৭ অনুচ্ছেদে কমিশনের সভাপতি ও সদস্যদের পারিশ্রমিক, বিশেষ অধিকার ও কর্মের অন্যান্য শর্তের এমন কোন তারতম্য করা যাবে না যা তাদের পক্ষে অসুবিধাজনক হতে পারে। ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। এছাড়া হাইকোর্টের রুলিং অনুযায়ী এসব ব্যক্তির কোন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই।’
সংবিধান এই কমিশনকে স্বতন্ত্র সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিলেও বাস্তবে মর্যাদা অনেক নিচে। কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগে সততা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মাপকাঠি কী হবে, সে সম্পর্কে সংবিধানে কিছুই বলা হয়নি। সংবিধানে সভাপতি ও সদস্যদের পারিশ্রমিক, বিশেষ অধিকার ও কর্মের অন্যান্য শর্তের এমন কোনো তারতম্য করা যাবে না—বলা হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। মর্যাদার দিক থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (বিমক) পিএসসি’র চেয়ে উচ্চমর্যাদা দেয়া হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন—সংবিধানে এমন কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের পরামর্শেই নিয়োগ হয়ে থাকে। কমিশনের সদস্য নিয়োগে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নেই বলা হলেও বাস্তবে তার মিল নেই। সরকারের নির্বাহী বিভাগের মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, সচিব কিংবা দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই নিয়োগে প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
এসব বিষয়ে ড. আকবর আলি খান আমার দেশ-কে বলেন, কমিশনের সদস্যদের নিয়োগের যোগ্যতা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার কোনো মাপকাঠি সংবিধানে নেই। সংবিধানের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের ১৩৭, ১৩৮ এবং ১৩৯ অনুচ্ছেদে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ এবং বয়সের কথা বলা হলেও নিয়োগ মাপকাঠির বিস্তারিত কিছু নেই। কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সরকারই তা করেনি। অথচ ইচ্ছা করলেই সরকারের পক্ষে এটা করা সম্ভব এবং এতে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও মর্যাদাও প্রতিষ্ঠা হবে।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য : পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইন বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও বাস্তবে এটি একটি ন্যারো-বেজড লো-প্রফাইলের প্রতিষ্ঠান। আমাদের চেয়ে অন্য অনেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বেশি। এখানে নিয়োগের কোনো মাপকাঠি না থাকায় রাস্তা থেকে একজনকে ধরে নিয়ে বসালেও তা আইনবহির্ভূত হয় না। তিনি বলেন, আমাদের সদস্যরা নতুন স্কেলে বেতন পর্যন্ত পাচ্ছেন না।
পিএসসিতে দলীয় সদস্য নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আমার এখতিয়ারবহির্ভূত। পিএসসি কোনো সদস্যকে নিয়োগ দেয় না। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

No comments:

Post a comment