Saturday, 10 April 2010

যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া : আয়োজক আ.লীগের নেতারা

বিশাল বাংলা ডেস্ক | prothom-alo তারিখ: ১১-০৪-২০১০

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যাত্রা ও সাকার্সের নামে রাতভর অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর চলছে। এতে এলাকার উঠতি বয়সের যুবকেরা বিপথগামী হচ্ছে। যাত্রার মাইকের শব্দে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। আর দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা যাত্রা ও জুয়া খেলায় টাকা খোয়াচ্ছে। সাদুল্যাপুরে যাত্রার নামে এসবের আয়োজন করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
গাইবান্ধা: সাদুল্যাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের ঢোলভাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের মাঠে গত ১৫ দিন ধরে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর চলছে। কলেজের অধ্যক্ষ সারওয়ার রাব্বি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো অনুমতি না নিয়েই জোরপূর্বক কলেজের মাঠে যাত্রা ও জুয়া খেলা চালানো হচ্ছে।’
সরেজমিন ঢোলভাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর সেখানে নানা রকম জুয়া খেলা শুরু হয়। গভীর রাতে চলে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য। এলাকাবাসী জানান, ঢোলভাঙ্গা গ্রামের আওয়ামী লীগের নেতা খসু মিয়া, মনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির নেতা পাপুল মিয়া, রনজু প্রধান, আলম প্রধান ও দাদন ব্যবসায়ী মওলা মিয়ার নেতৃত্বে এসব কর্মকাণ্ড চলছে। সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম বলেন, যাত্রা চালানোর জন্য জেলা প্রশাসক অনুমতি দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো করণীয় নেই।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা খসু মিয়া, মনোয়ারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির নেতা পাপুল মিয়া বলেন, ঢোলভাঙ্গা সমাজকল্যাণ ও নাট্য সংস্থার সাহায্যার্থে কলেজের কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই যাত্রা চালানো হচ্ছে। তবে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য চালানোর কথা তাঁরা অস্বীকার করলেও জুয়ার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল): মির্জাপুরের বাইমহাটি গ্রামে গত বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রা ও সার্কাসের নামে হাউজি, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের আসর বসছে। মির্জাপুর ক্লাব এসবের আয়োজক। সন্ধ্যা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত সেখানে চলে হাউজি। এরপর শুরু হয় যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য। হাউজি ও যাত্রার পাশাপাশি বসে জুয়ার আসর। মির্জাপুর কলেজের সাবেক শিক্ষক শক্তিপদ ঘোষ বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার সময় এসব আয়োজন করায় পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, যাত্রার নামে জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক এম বজলুল করীম বলেন, মেলা ও সার্কাসের অনুমতি নিয়ে এ ধরনের অনৈতিক কাজ চালানোর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-04-11/news/55770

মিডিয়া সন্ত্রাসের দু-চারটা নমুনা দেখুন | ড. হোসেন খিলজী

ক. বিদেশে যাওয়া বনাম দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া

জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এটা ২৮ মার্চ কয়েকটি পত্রিকার অন্যতম প্রধান খবর। কোন মন্তব্য করার আগে কয়েকটি পত্রিকার কিছু অংশ থেকে কোট করা যাক।

মীর কাশেম আলী দেশ ছেড়েছেন! শীরোনামে ২৮ মার্চ প্রথম আলো লিখেছে, �জামায়াতের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলী বিদেশে গেছেন। গত ২৪ মার্চ সকালে তিনি কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকা ছেড়ে যান। ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর প্রাক্কালে মীর কাশেম আলীর এই বিদেশ গমনকে সরকারি কর্তৃপক্ষ দেশ ছেড়ে যাওয়া হিসেবে দেখছেন। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করার অভিযোগ আছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মীর কাশেম আলীর সঙ্গে তাঁর পুত্র মীর আরমান আলী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এনামুল হকও ছিলেন। ঢাকা ত্যাগের সময় তাঁরা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মীর কাশেম আলী বিমানবন্দর ত্যাগ করার সময় আওয়ামী লীগের এক সাংসদ বিদেশ থেকে ফিরছিলেন। তিনি কাশেম আলী কীভাবে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে বিদেশে যাচ্ছেন, তা জানতে চাইলে হইচই শুরু হয়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়। ততক্ষণে তিনি চলে গেছেন। পরে লাউঞ্জ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।�

২৮ মার্চ যুগান্তর লিখেছে, �দেশ ছেড়েছেন মীর কাশেম আলী। একাত্তরের ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত এবং দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলী দেশ ছেড়ে সৌদি পালিয়ে গেছেন। তিনি বুধবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মার্চ কাতার এয়ার ফ্লাইট কিউআর-৩৪৫ বিমানযোগে মীর কাশেম আলী দেশ ছাড়েন। দুবাই হয়ে সৌদি আরব গেছেন এবং এখন তিনি সেখানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মীর কাশেম আলীর সঙ্গে তার পুত্র মীর আরমান আলী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এনামুল হকও ছিলেন। �

২৮ মার্চ জনকন্ঠে শংকর কুমার দে পরিবেশিত খবরে বলা হয়, �ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে মীর কাশেম আলী বিদেশ গেলেন! সরকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিদেশ যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতি তোয়াক্কা না করে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী ও কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু সৌদি আরব চলে গেছেন। সূত্র জানায়, স্বাধীনতা দিবসের দু'দিন আগে গত ২৪ মার্চে জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী ও কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু সৌদি আরব যাওয়ার জন্য হযরত শাহ্জালাল বিমানবন্দরে যান। বিমানবন্দরে গিয়ে মীর কাসেম আলী ভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থান নেন। তিনি যখন সৌদি আরব যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন বিদেশ থেকে এসে বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি। ব্যারিস্টার তাপস যুদ্ধাপরাধীদের বিদেশে যাতায়াত ও বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সিভিল এ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তাদের ডেকে তিনি এর কৈফিয়ত চান। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায় গোটা বিমানবন্দরে।�

২৯ মার্চ মানবজমিন লিখেছে, �তিনি বিদেশ যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য চিঠি দিয়েও অনুমতি নিয়েছেন। সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, মীর কাশেম আলী কেবল বিদেশে চলে গেছেন এমন নয়- তিনি চিঠি দিয়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভিআইপি গেইট ব্যবহার করা, ভিআইপি লাউঞ্জের পাশের লাউঞ্জও ব্যবহার করেছেন। দিগন্ত টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেই তিনি বিমানবন্দরে সুবিধা পাওয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশনের সহায়তা চেয়েছিলেন। তার পক্ষ থেকে এ জন্য সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছে চিঠি দেয়া হয়েছিল। ২২শে মার্চ পরিচালক, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বরাবর দেয়া ওই চিঠিতে তিনি ২৪শে মার্চ সকালে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দোহা হয়ে রিয়াদ যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরও জানিয়েছেন, আগামী ৮ই এপ্রিল তিনি দেশে ফিরবেন। যাওয়া-আসার সময় তাকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি তাকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এদিকে দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা মুজাহিদ বলেন, চেয়ারম্যান স্যার বিদেশ যাওয়ার আগে সব পত্রিকায় প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে তার বিদেশ যাওয়ার খবরটি জানানো হয়েছিল। তিনি অফিসের কাজে গেছেন। পালিয়ে যাননি। তিনি পালিয়ে গেলে পত্রিকায় প্রেস রিলিজ দেয়া হতো না। এছাড়াও তিনি বিমানবন্দর দিয়ে যাচ্ছেন তা-ও আগেই জানিয়েছেন। মীর কাশেম আলী আগামী ৮ই এপ্রিল দেশে ফিরবেন।

আমাদের সময় ২৯ মার্চ লিখেছে, � গত ১৫ মাসে নানা প্রয়োজনে তিনি ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়া সফর করেছেন এবং যথারীতি দেশে ফিরেও এসেছেন। �

মীর কাসেম আলীর পালিয়ে যাওয়ার খবরে তোলপাড় শীরোনামে ২৯ মার্চ সমকাল লিখেছে, �জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সরকারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মীর কাসেমের পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে, তিনি পালিয়ে যাননি। সপ্তাহের মধ্যে আবার ফিরে আসবেন। তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর আরমান আলী দাবি করেছেন, বাবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি আগামী সপ্তাহেই দেশে ফিরবেন। এদিকে মীর কাসেম আলীর বিদেশ যাওয়ার কারণ জানিয়েছে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবার। দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মীর কাসেম আলী কাতারভিত্তিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আল-জাজিরার সঙ্গে অনুষ্ঠান বিনিময় চুক্তি করতে কাতার হয়ে সৌদি আরব গেছেন। অন্যদিকে আরমান আলী দাবি করেছেন, মীর কাসেম আলী দিগন্ত টিভি দর্শক ফোরামের সৌদি আরব শাখার সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরব গেছেন। আগামী সপ্তাহে তিনি দেশে ফিরবেন।�

নয়া দিগন্ত ৩০ মার্চ লিখেছে, �কয়েকটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় গত ২৮ মার্চ দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলী দেশ ছেড়েছেন মর্মে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ করেছে দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেড। এ তথ্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য। সংস্থার এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, জনাব মীর কাসেম আলী দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন এবং তার নিজস্ব হাউজিং ও পয�টন ব্যবসার প্রয়োজনে দেশের বাইরে গেছেন। গত কয়েক মাসে এ ধরনের প্রয়োজনে তিনি ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়া সফর করেছেন এবং যথারীতি দেশে ফিরেও এসেছেন। এবার সৌদি আরব ও কাতার সফরের সময় তিনি উমরাহ পালন করবেন এবং কাতারের একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাথে দিগন্ত টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিনিময় সংক্রান্ত এক আলোচনায় যোগ দেবেন।�

প্রিয় পাঠক দেখুন, প্রথম আলো ও যুগান্তর লিখেছে, মীর কাশেম আলীর সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এনামুল হকও ছিলেন। আবার জনকন্ঠ লিখেছে, সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু সৌদি গেছেন। এনামুল হক আর মজিবুর রহমান মঞ্জু এক হয় কি করে! অন্যদিকে প্রথম আলো ও যুগান্তরের মতে, মীর কাশেমের সাথে আছেন তার পুত্র মীর আরমান আলীও। সমকালে রিপোর্টে দেখা যায় তার পুত্র আরমান দেশেই আছেন। তাদের কাছে তিনি প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন।

খ. ঢাকায় আছেন নাকি যুক্তরাজ্যে আছেন

যুদ্ধাপরাধীদের শিরোমনী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন। খবরটি দিয়েছে দেশের প্রধান প্রত্রিকার দাবিদার প্রথম আলো ২৬ মার্চ-এ।

টিপু সুলতান পরিবেশিত খবরে ২৫ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান শীরোনামে লেখা হয়েছে, �যুদ্ধাপরাধী হিসেবে প্রাথমিকভাবে ২৫ জনের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেছে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করতেই মাসখানেক ধরে গোয়েন্দারা ওই সন্দেহভাজনদের অপরাধের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের এ সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রাথমিকভাবে যে ২৫ জনের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, তাঁদের অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও দলটির সাবেক সাংসদ আবদুল আলীমের (জয়পুরহাট) নামও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাকি ২৪ জন হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম (বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন), জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, মাওলানা আবদুস সুবহান ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা.........�।

মানবজমিন ২৭ মার্চ প্রথম আলোর রিপোর্টটি নকল করে একই তালিকা প্রকাশ করে। এমনকি হুবহু লিখে� সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাকি ২৪ জন হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম (বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন), জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, মাওলানা আবদুস সুবহান ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা.........�।

গোলাম আযম অসুস্থ, ঢাকায় আছেন। এটা সমকালের ২৮ মার্চের খবর। সমকাল লিখেছে, � জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তিনি বর্তমানে মগবাজারের কাজী অফিস গলির নিজ বাসভবনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাঁটুর ব্যথা, স্নায়বিক দুর্বলতা ও সায়াটিকা সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন বলে জানা গেছে। গোলাম আযমের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হক সমকালকে এসব তথ্য জানান। গত বৃহস্পতিবার সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করেছে। যুদ্ধাপরাধের জন্য সবচেয়ে বড় অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যেসব ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সব তালিকাতেই গোলাম আযমের নাম শীর্ষে রয়েছে। গোলাম আযম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির ছিলেন। সেই সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন। গোলাম আযম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে চলে যান। নাজমুল হক জানান, গোলাম আযম বর্তমানে মগবাজারের কাজী অফিস গলির নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানাবিধ রোগে ভুগছেন। কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারেন না। গোলাম আযমের পাঁচ ছেলে বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা তার সঙ্গেই বসবাস করেন। গোলাম আযম বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে খবর পরিবেশন করা হয়েছে তা সত্য নয় বলে নাজমুল হক সমকালকে জানিয়েছেন। �

উল্লেখ, টিপু সুলতান ফেনীর জয়নাল হাজারীর ক্যাড়ারদের হাতে মার খাওয়া সেই সাংবাদিক। উনিই নাকি প্রথম আলোর অনেক অনুসন্ধানী আর এক্সক্লুসিভ খবরের সংবাদদাতা। দেশের প্রধান যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম কোথায় আছেন, এটা জানে না আমাদের প্রধান পত্রিকা। গোলাম আযম দেশে আছেন না বিদেশে পালিয়ে আছেন এটা খোজ খবর নেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন বোধ করেন না এরা। দিলেন একটা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট করে। প্রথম আলোর অফিস থেকে গোলাম আযম দুরত্ব মনে হয় দুই কিলোর বেশী হবে না । এরাই এখন আমাদের সেরা পত্রিকা। এরাই আমাদের বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক।

গ. নাবালক যখন যুদ্ধাপরাধী

প্রতিদিন এখন পত্রিকাগুলোতে যুদ্ধাপরাধীর নিত্য নতুন তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে। কোন প্রত্রিকার মতে সরকার যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় আছেন ২৬ জন, কেঊ লিখেছে ৩১ জন, ৩৬ জন, ৪০ জন আবার কেউ লিখেছে ৫০ জন। ঐ সব তালিকায় যে কয়েকজনের নাম এসেছে তার মধ্যে জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান (ঢাকা জামায়াত আমির) আর আব্দুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও আমির) অন্যতম।

যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় মৃত ও ওই সময়ের শিশুরা শিরোনামে আমারদেশ ২৭ মার্চ লিখেছে, �সম্প্রতি প্রকাশিত ৩৬ জনের তালিকায় ৪ থেকে ৮ বছর বয়সের তিনজন রয়েছেন। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আমির মোঃ রফিকুল ইসলাম খান ১৯৬৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খোরশেদ আলম খান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দিন তার বয়স ছিল ৪ বছর ৬ মাস। ১৯৯২ সালে তিনি এমএ পাস করেন। ওই সময়েই ছাত্রশিবিরের সভাপতির পদ থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। সরকারের কাছে সংরক্ষিত যুদ্ধাপরাধের তালিকায় তার নাম রয়েছে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি (ঘাদানিক), সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ফেক্টস ফাইন্ডিংসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার দেয়া তালিকার আলোকে এরই মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ৩৬ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোও তাদের নাম প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় খুলনার জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরোয়ার ও চট্টগ্রামের মাওলানা সামসুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। ১৯৭১ সালে যাদের বয়স ছিল সর্বোচ্চ ৮-১০ বছর। আইন ও বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে যে কোনো লোককে যে কোনো অপরাধের আওতায় ফেলে বিচার করতে পারে। কিন্তু সেটা নিয়ে দুদিন পরে হলেও প্রশ্ন উঠবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যাদের বয়স ৩ থেকে ৫ বছর ছিল এমন শিশুদের মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী দেখিয়ে সম্প্রতি প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসারের চাকরি দেয়া হয়েছে। কাজেই ৩ বছরের শিশু যদি মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে ৫ বছরের শিশু কেন রাজাকার হতে পারবে না?

যুদ্ধাপরাধীদের নামের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে রফিকুল ইসলাম খান আমার দেশকে বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার সরকারের মূল লক্ষ্য নয়। তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নির্মূল করা। আমার বাবা ও চাচাসহ আমাদের পরিবারের সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমার চাচার ঘরটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সাব-ক্যাম্প। ওই সময় আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ৪ বছর। একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্ম নিয়েও এখন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে আমাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কাজেই এটি আর বুঝতে অসুবিধা নেই, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে সরকার যত অপচেষ্টাই করুক, অতীতের মতো সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।

উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, রফিকুল ইসলাম খানকে আমি এ কারণেই চিনি যে, তার বাবা ও চাচাসহ আমরা একত্রে যুদ্ধ করেছি। যুদ্ধের মাত্র কয়েক বছর আগে তার জন্ম হয়েছে। যুদ্ধের সময় যে শিশুটি ভালোভাবে হাঁটতেই শেখেনি তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কারণটা আমার বুঝে আসছে না। উল্লাপাড়ার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইসা খান বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া এবং জোরপূর্ব মানুষকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি দখলের অপরাধে যদি ৪ বছরের শিশুকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার করা হয়, তাহলে বুঝতে হবে দেশে আইনের শাসন নেই।

ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমির নজরদারিতে। এটা ২৯ মার্চ পত্রিকা গুলোর অন্যতম খবর। মার্চ ২৮ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, �যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় নাম থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হাকিমকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রোববার ভোর থেকে তার শহরের বাসার আশপাশে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বি এম হারুন-অর-রশিদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পত্র পত্রিকায় যুদ্ধাপরাধীদের তালিকায় নাম থাকায় তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, "তার নিরাপত্তার স্বার্থেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছা করলে বাড়ির বাইরে কাজে যেতে পারেন।"

সকালে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আব্দুল হাকিম দাবি করেন, ১৯৭১ সালে তার যুদ্ধাপরাধী হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। ১৯৮৫ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জড়িত হন। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তার নাম যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও পাঠান। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার রায় বলেন, জামায়াত নেতা হাকিমের বাড়ি এ উপজেলার জিয়াবাড়ি গ্রামে। ১৯৭১ সালে হাকিম ছিলেন কালমেঘ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। �

২৯ মার্চ ভোরের কাগজের সহযোগী পত্রিকা দিনের শেষে আব্দুল হাকিমকে কোট করে লিখেছে, � তিনি ১৯৭০ সালে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ব্রত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন�। অপরদিকে সমকাল, জনকন্ঠ, প্রথম আলো, যুগান্তর ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমিরকে যুদ্ধাপরাধী্ ও গ্ববন্দি করার নিঊজটি দিলেও তার বয়স, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাঠানো সবকিছুই চেপে যায়।

লেখকঃ গবেষক, মানবাধিকার কর্মী, ইমেইল, hossain.khilji@yahoo.com

Jama't wasn't involve in any war crime activities: A S M Rob



http://www.dailynayadiganta.com/2010/04/09/fullnews.asp?News_ID=205132&sec=1

no body should be named war criminal before it's trial

১৯৭২-৭৫-এর রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র

১৯৭২-৭৫-এর রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র
একথা দেশের সকল মানুষেরই জানা বিষয় যে, স্বাধীনতা-পরবর্তী অসংখ্য রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের সঙ্গে ইসলামপন্থী দল তথা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কোন সম্পর্ক ছিলনা। কি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা আর কি জিয়াউর রহমান, জেনারেল মঞ্জুর, খালেদ মোশাররফ কিংবা কর্ণেল তাহের এঁরা কিভাবে নিহত হয়েছেন দেশবাসীর তা জানা। কারাগারে চার নেতার হত্যাকান্ডের ঘটনা ? শেখ মুজিবের বিখ্যাত উচ্চারণ : ‘কোথায় সিরাজ শিকদার’Ñএর সিরাজ হত্যাকান্ড? এভাবে চেনা-অচেনা বহু সামরিক, অসামরিক ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। কিন্তু এসবের সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। অথচ সবচেয়ে বেশী প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে ইসলামপন্থীরাই। এ যেন প্রবাদের সেই ‘কেষ্ট ব্যাটাই চোর।’ এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন দেয়া গেল :-
>১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে ঢাকার প্রকাশ্য রাজপথ থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা স্টুয়ার্ড মুজিবকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। প্রায় কাছাকাছি সময়েই হত্যা করা হয় নরসিংদীর বীর মুক্তিযোদ্ধা নেভাল সিরাজকে। নেভাল সিরাজ ছিলেন ভাসানী ন্যাপের লোক এবং নরসিংদী অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতা। একদিন বিকেলে গুপ্তঘাতকের গুলিতে তিনি নিহত হলেন। তবে গুপ্তঘাতক কারা তা একেবারে অজানা ছিলোনা। তারা ছিলো স্থানীয় মুজিব বাহিনীর লোকজন। স্বাধীনতার ঊষালগ্নেই এইভাবে শুরু হলো হত্যার রাজনীতি।
>১৯৭২ সালের ৯ই জুন সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর কলেজের ১৮নং কক্ষে ব্রাশ ফায়ার করে জাসদ কর্মী কোরবানসহ ৭জনকে হত্যা করা হয়।
>সে বছরই ২৪ জুলাই মুজিববাদীরা অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে পল্টন ময়দানে আসম রবের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের সমাবেশে হামলা চালালে আসম রবসহ শতাধিক আহত হয়।
>১০ই অক্টোবর ঢাকার নবাবগঞ্জে কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা সিদ্দিক মাস্টারকে শাসক দলের গোপন বাহিনী স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।
>একই বছর ১৮ই জুলাই খুলনা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বাবর শেখকে আওয়ামী লীগ এমপির বাড়িতে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।
>১৯৭৩ সালের ২৭শে মে নরসিংদীতে জাসদের মিছিলে গুলি চালিয়ে থানা জাসদ নেতা আলাউদ্দীনসহ ১০জনকে হত্যা করা হয়।
>এ বছরই গাইবান্ধার কালিবাড়িতে সদর থানা জাসদ সভাপতি সুজা (বীরবিক্রম)কে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে মারা হয়।
>১০ই আগস্ট বরিশালে জাসদের মিছিলে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় জাসদ ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে।
>একই বছর পাবনার ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট থেকে অপহরণ করে সিরাজগঞ্জের জাসদ নেতা আবদুস সালামকে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
>অক্টোবরে পাবনায় রক্ষীবাহিনী পিটিয়ে খুন করে জাসদ কর্মী আশফাক, ফারুক, মাসুদ ও সিদ্দিকুর রহমানকে।
>একই মাসেই রাজশাহীর বাগমারা থানায় একই দলের সাধারণ সম্পাদক মনিরকে তার ছোট ভাইসহ হত্যা করা হয়।
>২১শে সেপ্টেম্বর বগুড়ার রহমান নগর মোড়ে মুজিববাদীরা ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে জাসদ ছাত্রলীগের ৩ নেতা রুনু, রশিদ ও তোতাকে।
>সে বছরই সাতক্ষীরা জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফকে খুন করে মুজিববাদীরা।
১৯৭৩ সালে হত্যালীলায় নতুন মাত্রা যোগ হয় রাজধানীতে।
>১লা জানুয়ারী ঢাকায় ভিয়েৎনামে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে মস্কোপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন বিক্ষোভ মিছিল বের করলে গুলীতে মতিউল ও কাদেরুল নামে দু’জন নিহত হয়। রাজপথে গুলী করে মানুষ হত্যার জন্য পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীকে দায়ী করা হতো, স্বাধীন বাংলাদেশে তারই পুনরাবৃত্তি করে মুজিব সরকার।
>সে বছর ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে মুশতাক, আজাদ ও শহীদসহ ৪ রাজনৈতিক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে মুজিববাদীরা।
>১৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকার নবাবগঞ্জে রক্ষীবাহিনীর সহায়তায় বাবলু, রবি ও সম্পদসহ জাসদ ছাত্রলীগের ৭জন নেতা-কর্মীকে শত শত লোকের সামনে গুলি করে মারে মুজিববাদীরা।
>৬ই অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস জাসদ ছাত্রলীগ নেতা রোকনকে খুন করা হয়।
>১৯৭৪ সালের ৪ঠা এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের টিভি রুমে একই সঙ্গে ৭জন ছাত্রকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়। যা দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। শিক্ষাঙ্গনে বড় মাত্রার সন্ত্রাসের প্রথম ঘটনা ছিল এই হত্যাকান্ড। মুজিববাদী ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই হত্যাকান্ড ঘটে। নিহতরা হলো কোহিনুর, ইদ্রিস, জিন্নাহ, হোসেন, এবাদ, মাসুদ ও কোহেল।
>’৭৪ সালের ৩রা ফেব্র“য়ারী জাসদের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ও জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের শ্বশুর এ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মুজিববাদীদের গুলিতে খুন হন।
>‘৭৫সালের ২রা জানুয়ারী বন্দী অবস্থায় সাভারে ঠান্ডা মাথায় গুলি মারা হয় সিরাজ শিকদারকে। হত্যার পর শেখ মুজিব হুঙ্কার দিয়ে ঘোষণা করেন, ‘কোথায় সিরাজ শিকদার ?’
>৯ই জানুয়ারী নোয়াখালীর জাসদের অন্যতম নেতা ইঞ্জিনিয়ার নজির আহমদকে হত্যা করা হয়।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশ ছিল কার্যতঃ রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের এক উর্বর ভুমি। আর এসব হত্যাযজ্ঞের তালিকা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় খুবই সামান্য। এর শিকার দলগুলোর দাবী অনুযায়ী এই সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, এসব ঘটনার সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সম্পৃক্ততার কোন সুযোগ ছিলনা। তা ছিল ধর্মনিরপেক্ষবাদী ও সমাজতন্ত্রীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লড়াইয়ের ফসল।
দেশের রাজনীতিকে উল্টেপাল্টে দেবার মতো হত্যার ঘটনা প্রথম সংঘটিত হয় ১৯৭৫ সালে। ১৫ই আগস্ট নিহত হন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবর রহমান ও তাঁর সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি শেখ ফজলুল হক মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যবর্গ। সেই বছরেই ক্যু-পাল্টা ক্যু-তে নিহত হন খালেদ মোশাররফ। কারাগারে হত্যা করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিচার করে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় কর্ণেল তাহেরের।
১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রামে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে নিহত হন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই হত্যাকান্ডকে কেউ শেখ মুজিব হত্যার পাল্টা ঘটনা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ এর সঙ্গে এরশাদের ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রয়াস পান। জিয়া হত্যার পরপরই জেনারেল মঞ্জুরসহ কয়েকজন সামরিক অফিসারও মারা যান। কিন্তু এতোসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে ইসলামপন্থী রাজনীতির কোন সম্পর্ক নির্দেশ করা যায়নি।
১৯৮২ সালে সামরিক আইন জারির পর এরশাদ সরকারের ৯ বছরেও বেশ কিছু রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটে। ১৯৮৪ সালের এপ্রিলে যশোরের পত্রিকা সম্পাদক গোলাম মাজেদকে কারাগারে দীর্ঘ নির্যাতন করা হয়। তিনি মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে মারা যান। এরপর বিভিন্ন সময়ে হত্যাকান্ডের শিকার হন শ্রমিক নেতা আবদুর রহমান ও তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজউদ্দীন, ডা. শামসুল হক মিলন, ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ, রউফুন বসুনিয়া, সেলিম, দেলোয়ার, জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা, নুর হোসেন, তিতাসসহ বহুসংখ্যক নেতা-কর্মী। ১৯৮৩ সালের ১৪ ও ১৫ই ফেব্র“য়ারী এবং ২৮শে নবেম্বর তৎকালীন সরকারের নির্দেশে কত মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয় তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান আজো পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২ হাজারের বেশী ছাত্র-সংঘর্ষ ঘটে। এসব ঘটনায় নিহত হয় ১২০ জনের মত, আহত হয় প্রায় ১০ হাজার। এগুলোর বেশীর ভাগই ঘটে বাম ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের হাতে। প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনকে ক্যাম্পাস থেকে উৎখাত করতে কিংবা নিজ দলের মধ্যে ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে অথবা ঠিকাদারীর সঙ্গে জড়িয়ে তারা সংঘাতে লিপ্ত হয়। ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাস, রাজনীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ শীর্ষক গ্রন্থে ড. নজরুল ইসলাম ১৯৯১ সালের একটি পরিসংখ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের বিবরণ দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের হিসেবে ৪টি, আ’লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের সঙ্গে ১০টি এবং এককভাবে ১৫টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটায়। অন্যদিকে আ’লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগ ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৫টি সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ১০টি ছিল ছাত্রদলের সঙ্গে, ৮টি অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ৪টি জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে এবং ৩৩টি বিচ্ছিন্নভাবে ছাত্রলীগ ঘটিয়েছে। জাসদ ছাত্রলীগ ৫টি সন্ত্রাসী ঘটনায় যুক্ত।
দেশে গত কয়েক বছরে বেশ ক’জন সাংবাদিক নিহত ও আহত হন সন্ত্রাসীদের হাতে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার পত্রিকা সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালু, সাংবাদিক মানিক সাহা, শেখ বেলাল উদ্দীন, হারুনুর রশীদ, নহর আলী ও শুকুর হোসেন। যশোরে নিহত হন সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল, পত্রিকা সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল, সাতক্ষীরার পত্রিকা সম্পাদক স.ম. আলাউদ্দীন, ঝিনাইদহের আরেক পত্রিকা সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন দিলীপ, চট্টগ্রামের কামাল হাসান প্রমুখ। ২০০৩ সালের অক্টোবরে ফেনীর সাংবাদিক (বর্তমানে ঢাকায় প্রথম আলোয় কর্মরত) টিপু সুলতানকে আওয়ামী লীগের এমপি জয়নাল হাজারী বাহিনীর নির্যাতন ও হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
এই দীর্ঘ তালিকার হত্যাকান্ডের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কোন সম্পর্ক নির্দেশ করতে পারেনি কেউ। শুধু হাওয়ায় গদা ঘোরানো হয়েছে, আর সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বলে চালানোর প্রয়াস নিয়েছে ধর্মবিরোধী ষড়যন্ত্রী মহল।

Tuesday, 6 April 2010

ময়মনসিংহে আ’লীগের এমপিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপ-জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুসলেম উদ্দিনসহ ১৪ জনকে আসামি করে ময়মনসিংহের আদালতে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নং-২৯৩/২০১০। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ১০৯/১১৪/১২৩/ ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৩০২/২০১/৪৩৬/৩৭৬/৩৭৯/৩৪ ধারা। গতকাল দুপুরে ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফুলবাড়িয়া আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞবিচারক লুত্ফর রহমান শিশির মামলাটি আমলে নিয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক দুলাল।
এই মামলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মোঃ জুবেদ আলী ও খন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লাহ, সাবেক এমএলএ আনম নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীসহ ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলা অনুযায়ী আসামিরা স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, দালাল, যুদ্ধাপরাধী, দেশদ্রোহী ও আইন অমান্যকারী লোক। আসামি অ্যাডভোকেট মুসলেম উদ্দিন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর সমর্থনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার বাহিনীর কমান্ডে যোগদান করেন এবং জেলা রাজাকার প্রধান আব্দুল হান্নানের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানার জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত সংগ্রহ করেন। যুদ্ধের সমস্ত গোপন তথ্য পাকবাহিনীর কাছে প্রকাশ করে ফুলবাড়িয়া থানার সব মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের তথ্য-তালিকা সরবরাহ করে তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেন। আসামিরা বহু মা-বোনের ইজ্জত লুটতে পাকিস্তানি সেনাদের লেলিয়ে দিয়ে গুরুতর অপরাধ করেন। পাকবাহিনীসহ বাদীর বাড়িতে এসে বাড়ির মালামাল লুটপাট করে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সালাম ও আব্দুল মান্নানের বাড়িসহ আরও ৪/৫টি বাড়ি লুণ্ঠনের পর পুড়িয়ে দেয়। আসামিরা ২০/০৬/১৯৭১ তারিখে বসু চৌধুরীকে উপজেলার কুশমাইলে, ১২/০৬/৭১ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদকে ফুলবাড়িয়ায়, ২৯/১১/১৯৭১ তারিখে তালেব আলী, সেকান্দর আলী ও আলতালিকে ভালুকজান এলাকায় হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এছাড়া আসামিরা ২১/১১/১৯৭১ তারিখে ফুলবাড়িয়ার আছিমের যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে এবং ১৪/০৭/১৯৭১ তারিখে শহিদুল্লাহ মাস্টার ও সাবেদ আলীকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে ওই সময়কার পত্র-পত্রিকায় এসব ঘটনা প্রকাশিত হয়। মামলার আসামিরা হলেন—ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল গ্রামের শুক্কুর আলী মুন্সীর ছেলে মুসলেম উদ্দিন (৭৬) এমপি, ফুলবাড়িয়া গ্রামের ফয়সাল বারী (৬১), এবাদুল্লাহ (৭০) ও মুকছেদ আলী (৮০), চৌধার গ্রামের আব্দুস ছামাদ মাস্টার ওরফে টিক্কা খান (৭৫) ও আব্দুল মণ্ডল (৮০), চর রাধাকানাই গ্রামের আঃ জব্বার (৬০), কুশমাইল গ্রামের মফিজ উদ্দিন ওরফে মফে (৮০) ও ওয়াহেদ আলী মুন্সী (৮০) ও সোহরাব আলী (৭৮), ভালুকজান গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন ফকির (৭২), বাকতা গ্রামের আঃ জব্বার (৬৮), পুুটিজানা গ্রামের মুকছেদ আলী (৭০), পলাশী হাটা গ্রামের আমজাদ আলী হাজীসহ (৭৫) আরও অজ্ঞাত ২০/২৫ জন।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/07/26309

ময়মনসিংহে সরকারদলীয় এমপি মোসলেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা

Tue 6 Apr 2010 7:55 PM BdST

rtnn ময়মনসিংহ, ০৬ এপ্রিল (আরটিএনএন ডটনেট)-- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ময়মনসিংহে একটি মামলা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাসহ কয়েকটি ঘটনায় অভিযোগ এনে তাকেসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে এ মামলা হয়েছে।

ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ফুলবাড়িয়া) দুপুরে মামলাটি করেন একই উপজেলার আওয়ামী লীগের শ্রম ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. জালাল উদ্দিন (৬৫)। তিনি উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামের অধিবাসী।

বিকেল ৪টায় বিচারক লুৎফর রহমান শিশির মামলাটি আমলে নিয়ে ফুলবাড়িয়া থানার ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোসলেমসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে লুট ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখিত ১৪ আসামি হলেন- ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল গ্রামের শুক্কুর আলী মুন্সীর ছেলে মুসলেম উদ্দিন (৭৬), ফুলবাড়িয়ার ফয়জাল বারী (৬১), এবাদুল্লাহ (৭০) ও মুকছেদ আলী (৮০), চৌধার গ্রামের আব্দুছ ছামাদ মাস্টার ওরফে টিক্কা খান (৭৫) ও আব্দুল মল্ডল (৮০), চর রাধাকানাই গ্রামের আ. জব্বার (৬০), কুশমাইল গ্রামের মফিজ উদ্দিন ওরফে মফে (৮০), ওয়াহেদ আলী মুন্সী (৮০) ও সোহরাব আলী (৭৮), ভালুকজান গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন ফকির (৭২), বাকতা গ্রামের আ. জব্বার (৬৮), পুটিজানা গ্রামের মুকছেদ আলী (৭০), পলাশী হাটা গ্রামের আমজাদ আলী হাজী (৭৫)।

এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মো. জুবেদ আলী, আনম নজরুল ইসলাম ও খন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লাহ এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৪ জনকে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামিরা ১৯৭১ সালের ২০ জুন উপজেলার কুশমাইলে বসু চৌধুরীকে, ফুলবাড়িয়ায় ১২ জুন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদকে, ২৯ নভেম্বর ভালুকজান এলাকায় তালেব আলী, সেকান্দর আলী ও আলতালিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেন।

এছাড়া তারা ১৪ জুলাই শহিদুল্লাহ মাস্টার ও সাবেদ আলীকে হত্যা করেন।

একই বছরের ২৭ জুন আনুমানিক ২টায় আসামিরা পাকবাহিনীসহ বাদীর বাড়িতে এসে বাড়ির মালামাল লুটপাট করে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তারা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সালাম ও আব্দুল মান্নানের বাড়িসহ আরো ৪/৫টি বাড়ি লুটের পর পুড়িয়ে দেয়।

এছাড়া মামলার বিবরণে জানানো হয়েছে, এই ঘটনাগুলোর খবর ১৯৭১ সালে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন ১৯৭০ সালে ফুলবাড়ীয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকবাহিনীকে সহযোগিতা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী জালাল উদ্দিন।

তবে এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে ও আমার দল আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলতে এ মামলা করা হয়েছে। আমি এর বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবো।’

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট ফজলুল হক দুলাল, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, অ্যাডভোকেট গোলাম হোসেন প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

http://rtnn.net/details.php?id=23379&p=1&s=4