আলাউদ্দিন আরিফ ও ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বিদ্যুতের দাবিতে ২০০৬ সালে গড়ে ওঠা কানসাট আন্দোলনের নেতা গোলাম রব্বানী বর্তমান বিদ্যুত্ পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ওপর মোটেই সন্তুষ্ট নন। আমার দেশ-এর সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে সরকারের ওপর ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুত্ পরিস্থিতি বর্তমানে ২০০৬ সালের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিদ্যুতের দাবিতে রাজধানী থেকে সুদূর চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার ফল ভোগ করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু এই দলের নেতৃত্বাধীন সরকার বিদ্যুত্ পরিস্থিতির কোনো উন্নতিই করতে পারছে না। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ মাসে যে অপকর্ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করেছে, তা বিএনপি জোট সরকারের ৫ বছরের দুর্নীতি অনিয়মের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
তবে সরকারকে আরও সময় দিতে চান গোলাম রব্বানী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠন হয়েছে, ১৬ মাস হয়েছে অথচ এখনও বিদ্যুত্ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আপনাআপনিই জনতার বিস্ফোরণ ঘটবে। মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা থাকে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পুলিশ, র্যাব, চিতা, কোবরা, আর্মি, বিডিআর দিয়েও সেই আন্দোলন সামাল দেয়া সম্ভব হবে না।
বিদ্যুতের দাবিতে ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পল্লীবিদ্যুত্ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তাই ‘কানসাট আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়। পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে এই আন্দোলনে নেতৃত্বে চলে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী। চারদলীয় জোট সরকার আমলের সামান্য লোডশেডিংকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের রূপকার বর্তমানের ভয়াবহ বিদ্যুত্ পরিস্থিতি নিয়ে কী ভাবছেন? তা জানার জন্যই মুখোমুখি হলে গোলাম রব্বানী জানান ক্ষোভের কথা।
তিনি বলেন, মানুষ যেভাবে মহাউল্লাসে মহাজোট সরকারকে গত নির্বাচনে বিজয়ী করেছিল, সে অনুযায়ী মানুষের কোনো প্রাপ্তি নেই। এই সরকার নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছিল। কিন্তু কিছু মামলা ও রায় বাস্তবায়ন ছাড়া একটিতেও সফলতা দেখাতে পারেনি। আমি মনে করি, মহাজোট সরকার এখন নির্বাচন করলে তাদের ভরাডুবি হবে। কারণ, ক্ষমতায় আসার পর গত ১৬ মাসে তারা যে অপকর্ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করেছে তাতেই বিএনপি জোট সরকারের ৫ বছরের দুর্নীতি-অনিয়মের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তার দৃষ্টিতে বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকার ৫ বছরেও এত স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি করেনি।
সরকারের উচিত বিদ্যুত্ খাত ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেয়া। কারণ বিদ্যুতের ওপর কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিত্সা সবকিছু নির্ভরশীল। ভাত, কাপড়, বাসস্থানের মতোই এখন বিদ্যুত্ অপরিহার্য মৌলিক চাহিদা।
তিনি ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে কানসাটের আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, বিদ্যুতের দাবিতে কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, ছাত্র, যুবক সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানসাটের মানুষের আন্দোলনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছিলেন এবং সবধরনের সহযোগিতা করেছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত কমপক্ষে ৫ বার তার ঘরোয়া বৈঠক হয়েছিল। সুধা সদনে বসেও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নেন এবং তাকে পরামর্শ দেন।
গোলাম রব্বানী বলেন, তিনিই শেখ হাসিনাকে আন্দোলন করতে হলে নেতাকর্মীদের লাঠি নিয়ে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শ মোতাবেক শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর মহাজোট নেতাকর্মীদের লগিবৈঠা নিয়ে রাস্তায় নামতে বলেন।
গোলাম রব্বানী বলেন, কানসাট আন্দোলন যে উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছিল, সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এই আন্দোলনের সুফল ভোগী বর্তমান সরকারের আমলে আমরা বিদ্যুত্ খাতে কোনো উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি না। বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৬ সালের চেয়েও ভয়াবহ। বর্তমানে কানসাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে। বাকি সময় থাকে না। ২০০৬ সালে বিদ্যুতের জন্য যে নাভিশ্বাস ছিল, এখনও সেই অবস্থাই বিরাজ করছে।
গোলাম রব্বানী স্থানীয় এমপি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হকের উদাহরণ দিয়ে বলেন, কানসাটের মানুষের আন্দোলনের ফলেই তাকে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী বানানো হয়েছে। এখন তিনি এলাকায় এলে পল্লীবিদ্যুতের রেস্টহাউসে থাকেন। তিনি যতক্ষণ এলাকায় থাকেন ততক্ষণ বিদ্যুত্ও থাকে। তিনি চলে গেলেই লোডশেডিং আবার শুরু হয়।
তিনি বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে আত্মীয়করণের অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, থানায় তার দলের কর্মীরা পালা করে ডিউটি করে। থানার ওসি দারোগারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কথায় ওঠে বসে। তারা যাকে মামলায় ফাঁসাতে বলে তাকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে। যেসব মানুষ সরকারি দল বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি হামলার শিকার হয় তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করে অর্থ আদায় করা হয়। এলাকার হাট, ঘাট, সেতু, বাজার, অফিস-আদালত সবকিছু এমপি ও তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ন্ত্রণে।
পল্লীবিদ্যুত্ আন্দোলনের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার কানসাট আন্দোলন যারা সংগঠিত করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি করছে। তিনি বলেন, কানসাট আন্দোলনে যে যারা সমর্থন দিয়েছিল, সেই তারাই এখন আমাদের পেছনে গোয়েন্দা লেলিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, কানসাট আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের টাকা কৃষকের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। তত্কালীন চারদলীয় সরকার এ দাবি বাস্তবায়ন করলেও বর্তমান সরকারের সময় ট্রান্সফরমারের শতভাগ টাকা কৃষকের কাছ থেকেই আদায় করা হচ্ছে। তাহলে আমাদের এই আন্দোলন করে লাভ কী?
কানসাট আন্দোলনের নেতা বর্তমান সরকার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে মনে করেন। তিনি বলেন, সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অনেক কথাই বলেছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা স্বীকার করেছে, সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য কমানো যায় না। চাল, তেল, ডালের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এই সরকারের আমলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড জোট সরকার ও ওয়ান ইলেভেনের সরকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। সরকার নির্বাচনের আগে বলেছিল ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবে, বিনামূল্যে সার দেবে কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমি তা বলেছি এবার নয়, আগের বার। নানামুখী ব্যর্থতায় এই সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোটায় বলে মনে করেন কানসাট নেতা গোলাম রব্বানী।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/10/26843
Saturday, 10 April 2010
শেখ হাসিনাকে হাসানুল হক ইনু : আপনার চাপাতি বাহিনীকে থামান : ওরা আপনাকে ক্ষমতায় আনেনি
স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনি আপনার চাপাতি বাহিনীকে থামান। ওরা আপনাকে ক্ষমতায় আনেনি। আপনাকে ক্ষমতায় এনেছে নতুন প্রজন্ম এবং নারী সমাজ। তিনি আরও বলেন, এ সরকারকে যে কোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম যদি হেঁটে ফাঁসির মঞ্চে যেতে নাও পারে তাকে পাঁজাকোলা করে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যেতে হবে। গতকাল বিকালে শহরের পুরনো বার ভবনে জেলা যুব জোটের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা যুব জোটের সভাপতি আলীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুব জোটের কেন্দ্রীয় নেতা রোকনুজ্জামান, জেলা জাসদ নেতা মোহর আলী চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, শাহজাহান প্রমুখ।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/10/26849
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনি আপনার চাপাতি বাহিনীকে থামান। ওরা আপনাকে ক্ষমতায় আনেনি। আপনাকে ক্ষমতায় এনেছে নতুন প্রজন্ম এবং নারী সমাজ। তিনি আরও বলেন, এ সরকারকে যে কোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম যদি হেঁটে ফাঁসির মঞ্চে যেতে নাও পারে তাকে পাঁজাকোলা করে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যেতে হবে। গতকাল বিকালে শহরের পুরনো বার ভবনে জেলা যুব জোটের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা যুব জোটের সভাপতি আলীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুব জোটের কেন্দ্রীয় নেতা রোকনুজ্জামান, জেলা জাসদ নেতা মোহর আলী চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, শাহজাহান প্রমুখ।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/10/26849
বিতর্কিত বিচারপতি নিয়োগের খবরে সমালোচনা : আইনের শাসন আছে কিনা সন্দিহান আইনজীবীরা : সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি
স্টাফ রিপোর্টার
সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় যোগদান, সুপ্রিমকোর্টে প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুরকারী ও খুনের মামলার আসামিকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত সংবাদে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সুপারিশই হচ্ছে অস্থায়ী নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি। প্রধান বিচারপতি খুনের মামলার আসামি ও সুপ্রিমকোর্টে ভাঙচুরে জড়িতদের কীভাবে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবীদের মধ্যে।
সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, এসব ঘটনা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। দেশে আইনের শাসন আছে কিনা, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনের শাসন আছে কিনা, এ নিয়ে আমরা আইনজীবীরাও সন্দিহান। খুনের মামলার আসামিকে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি করে সেই খুনের মামলা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার করে নেয়া আইনসম্মত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এটা সম্পূর্ণ বেআইনি হয়েছে। ফৌজদারি আইনে খুনের মামলার প্রধান আসামির নাম এভাবে তড়িঘড়ি করে প্রত্যাহার করে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর এ ধরনের ব্যক্তিকে বিচারপতি বানানোর উদ্দেশ্যে খুনের মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়ে থাকলে সরকার প্রমাণ করেছে তারা আইনের শাসন চায় না। সরকারের এই আচরণ বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা বিনষ্ট করেছে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। যাকে উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, তিনি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকলেই ভালো। খুনের মামলার আসামিকে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে—এই সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে মামলা থেকে সেদিনই তার নাম প্রত্যাহার করে নেয়া আইনসম্মত কিনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ২০ বছর আগে দায়ের করা মামলা প্রমাণ করা কঠিন। সাক্ষীরা অনেকেই তখন ঘটনার অনেক কিছু ভুলে যায়। তিনি বলেন, কমন সেন্স থেকে এটা বলা যায়—একটা মামলার জন্য কারও জীবন আটকে যাবে, এটাও মনে হয় খুব একটা ফেয়ার হবে না। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে দায়ের করা খুনের মামলাটির কেন বিচার নিষ্পত্তি হয়নি, সেটাও দেখার বিষয় রয়েছে। বাদীপক্ষ মনে হয় ততটা তত্পর নেই। তখন তাকে জানানো হয়, চার্জ গঠনের সময় কয়েকজন আসামিকে বাদ দেয়ার বিষয় চ্যালেঞ্জ করে বাদীপক্ষের একটি রিভিশন আবেদনের প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ নির্দেশ দিয়েছেন সবাইকে চার্জশিটভুক্ত করার জন্য এবং যাকে বিচারপতি বানানো হচ্ছে, তিনি এই মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। জবাবে শাহদিন মালিক বলেন, ২০ বছর কেন মামলাটির অগ্রগতি হয়নি, সেটাও একটা বিষয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে জীবন আটকে থাকতে পারে না। তখন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ উঠলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকেন। বিচারে নির্দোষ প্রমাণ হলেই কেবল আবার চাকরিতে যোগ দিতে পারেন। এ অবস্থায় কেউ খুনের মামলার প্রধান আসামি হলে বিচারপতি হতে পারেন কিনা জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক সরাসরি কোনো জবাব দেননি।
এদিকে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের নিয়োগ হলে মেনে নেয়া যায় না। সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল সুপ্রিমকোর্ট খোলার দিনে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে। সিনিয়র আইনজীবীরা মিলে বৈঠকে বসে কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বিচারপতির আলোচনা সভায় বসার বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে কোনো আবেদন জানাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠকেই সব সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে সভাপতির সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। সভাপতি সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে বৈঠকে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
১৯৮৮ সালের ১৭ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল লতিফ হলের ছাত্র আসলাম প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এই থানায় ১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসে দায়ের করা মামলাটির নং ১৪। এ মামলার প্রধান আসামি হলেন তত্কালীন জাসদ ছাত্রলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস বাবু। মামলার এজাহারে বলা হয়—রুহুল কুদ্দুস বাবু কিরিচ দিয়ে আসলামকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ১ নং আসামি রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জ গঠনের ওপর শুনানি শেষে আদালত বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। বাকি কয়েকজনকে চার্জ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে মামলার বাদীপক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করে। রিভিশনের শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে চার্জশিটভুক্ত সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য নিম্ন আদালতের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এই মামলাটি বর্তমানে রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আসামিরা জামিনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার খুনের মামলার প্রধান আসামি বিচারপতি হচ্ছেন শিরোনামে দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে সরকার রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ জনের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। হত্যাকাণ্ডের মামলার এফআইআরকারী বাদীর আইনজীবীদের না জানিয়ে এবং তাদের কোনোরকমের শুনানির সুযোগ না দিয়েই সংশ্লিষ্ট পিপি রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ জনের নাম প্রত্যাহারের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট আদালত সেই আবেদনটি বৃহস্পতিবারই গ্রহণ করেছেন। আসলামের পরিবারের আইনজীবী জানান, হাইকোর্ট থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ থাকার পরও নাম প্রত্যাহার করার অর্থ হচ্ছে হাইকোর্ট ও দেশের প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করা। তিনি বলেন, এতেই প্রমাণ করে সরকার দেশে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। সরকার নিজের ইচ্ছেমত আদালতকে পরিচালিত করছে।
উল্লেখ্য, সরকার হাইকোর্ট বিভাগে আরও ১৫ বিচারপতি নিয়োগের জন্য একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। এ তালিকায় খুনের মামলার প্রধান আসামি রুহুল কুদ্দুস বাবু, সুপ্রিমকোর্টে ভাঙচুরকারী আইনজীবী খসরুজ্জামানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী সম্প্রতি লন্ডন সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা, আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত আবদুল গাফফার চৌধুরী ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় অস্থায়ী থেকে স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ না পাওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি রিট আবেদন করেছিলেন। এই রিট আবেদনের রায়ের আলোকে বর্তমান সরকারের আমলে তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। অস্থায়ী মেয়াদ শেষে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ না পাওয়ার পর ৭ বছর নিজস্ব পেশায় ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। তার মামলার রায়েই হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ বলে দিয়েছে অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ, স্থায়ী নিয়োগ সব ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই রায়ের আলোকে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ হচ্ছে, নাকি নিয়োগে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/10/26757
সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় যোগদান, সুপ্রিমকোর্টে প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুরকারী ও খুনের মামলার আসামিকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত সংবাদে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সুপারিশই হচ্ছে অস্থায়ী নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি। প্রধান বিচারপতি খুনের মামলার আসামি ও সুপ্রিমকোর্টে ভাঙচুরে জড়িতদের কীভাবে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবীদের মধ্যে।
সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, এসব ঘটনা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। দেশে আইনের শাসন আছে কিনা, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনের শাসন আছে কিনা, এ নিয়ে আমরা আইনজীবীরাও সন্দিহান। খুনের মামলার আসামিকে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি করে সেই খুনের মামলা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার করে নেয়া আইনসম্মত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এটা সম্পূর্ণ বেআইনি হয়েছে। ফৌজদারি আইনে খুনের মামলার প্রধান আসামির নাম এভাবে তড়িঘড়ি করে প্রত্যাহার করে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর এ ধরনের ব্যক্তিকে বিচারপতি বানানোর উদ্দেশ্যে খুনের মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়ে থাকলে সরকার প্রমাণ করেছে তারা আইনের শাসন চায় না। সরকারের এই আচরণ বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা বিনষ্ট করেছে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। যাকে উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, তিনি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকলেই ভালো। খুনের মামলার আসামিকে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে—এই সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে মামলা থেকে সেদিনই তার নাম প্রত্যাহার করে নেয়া আইনসম্মত কিনা জানতে চাইলে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ২০ বছর আগে দায়ের করা মামলা প্রমাণ করা কঠিন। সাক্ষীরা অনেকেই তখন ঘটনার অনেক কিছু ভুলে যায়। তিনি বলেন, কমন সেন্স থেকে এটা বলা যায়—একটা মামলার জন্য কারও জীবন আটকে যাবে, এটাও মনে হয় খুব একটা ফেয়ার হবে না। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে দায়ের করা খুনের মামলাটির কেন বিচার নিষ্পত্তি হয়নি, সেটাও দেখার বিষয় রয়েছে। বাদীপক্ষ মনে হয় ততটা তত্পর নেই। তখন তাকে জানানো হয়, চার্জ গঠনের সময় কয়েকজন আসামিকে বাদ দেয়ার বিষয় চ্যালেঞ্জ করে বাদীপক্ষের একটি রিভিশন আবেদনের প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ নির্দেশ দিয়েছেন সবাইকে চার্জশিটভুক্ত করার জন্য এবং যাকে বিচারপতি বানানো হচ্ছে, তিনি এই মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। জবাবে শাহদিন মালিক বলেন, ২০ বছর কেন মামলাটির অগ্রগতি হয়নি, সেটাও একটা বিষয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকলে জীবন আটকে থাকতে পারে না। তখন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ উঠলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকেন। বিচারে নির্দোষ প্রমাণ হলেই কেবল আবার চাকরিতে যোগ দিতে পারেন। এ অবস্থায় কেউ খুনের মামলার প্রধান আসামি হলে বিচারপতি হতে পারেন কিনা জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক সরাসরি কোনো জবাব দেননি।
এদিকে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের নিয়োগ হলে মেনে নেয়া যায় না। সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল সুপ্রিমকোর্ট খোলার দিনে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে। সিনিয়র আইনজীবীরা মিলে বৈঠকে বসে কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বিচারপতির আলোচনা সভায় বসার বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে কোনো আবেদন জানাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠকেই সব সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে সভাপতির সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। সভাপতি সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে বৈঠকে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
১৯৮৮ সালের ১৭ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল লতিফ হলের ছাত্র আসলাম প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এই থানায় ১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসে দায়ের করা মামলাটির নং ১৪। এ মামলার প্রধান আসামি হলেন তত্কালীন জাসদ ছাত্রলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস বাবু। মামলার এজাহারে বলা হয়—রুহুল কুদ্দুস বাবু কিরিচ দিয়ে আসলামকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ১ নং আসামি রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জ গঠনের ওপর শুনানি শেষে আদালত বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। বাকি কয়েকজনকে চার্জ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে মামলার বাদীপক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করে। রিভিশনের শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে চার্জশিটভুক্ত সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য নিম্ন আদালতের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এই মামলাটি বর্তমানে রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আসামিরা জামিনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার খুনের মামলার প্রধান আসামি বিচারপতি হচ্ছেন শিরোনামে দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে সরকার রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ জনের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। হত্যাকাণ্ডের মামলার এফআইআরকারী বাদীর আইনজীবীদের না জানিয়ে এবং তাদের কোনোরকমের শুনানির সুযোগ না দিয়েই সংশ্লিষ্ট পিপি রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ জনের নাম প্রত্যাহারের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট আদালত সেই আবেদনটি বৃহস্পতিবারই গ্রহণ করেছেন। আসলামের পরিবারের আইনজীবী জানান, হাইকোর্ট থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ থাকার পরও নাম প্রত্যাহার করার অর্থ হচ্ছে হাইকোর্ট ও দেশের প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করা। তিনি বলেন, এতেই প্রমাণ করে সরকার দেশে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। সরকার নিজের ইচ্ছেমত আদালতকে পরিচালিত করছে।
উল্লেখ্য, সরকার হাইকোর্ট বিভাগে আরও ১৫ বিচারপতি নিয়োগের জন্য একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। এ তালিকায় খুনের মামলার প্রধান আসামি রুহুল কুদ্দুস বাবু, সুপ্রিমকোর্টে ভাঙচুরকারী আইনজীবী খসরুজ্জামানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী সম্প্রতি লন্ডন সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা, আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত আবদুল গাফফার চৌধুরী ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময় অস্থায়ী থেকে স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ না পাওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি রিট আবেদন করেছিলেন। এই রিট আবেদনের রায়ের আলোকে বর্তমান সরকারের আমলে তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। অস্থায়ী মেয়াদ শেষে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ না পাওয়ার পর ৭ বছর নিজস্ব পেশায় ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। তার মামলার রায়েই হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ বলে দিয়েছে অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ, স্থায়ী নিয়োগ সব ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই রায়ের আলোকে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ হচ্ছে, নাকি নিয়োগে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/10/26757
লন্ডনে আ’লীগ ও ঘাদানিক নেতাদের সঙ্গে বিচারপতির বৈঠকে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি লন্ডনে গিয়ে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, আওয়ামী লীগ নেতা এবং আওয়ামী ঘরানার আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা সভায় যোগদানের ঘটনায় লন্ডনে তোলপাড় চলছে। বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক) লন্ডন সফরে গিয়ে গত ১ এপ্রিল রাতে পূর্ব লন্ডনের ডকল্যান্ড মেমসাব রেস্টুরেন্টে এই বৈঠক করেন। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান মিনারের সভাপতিত্বে ব্যানার টাঙিয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বাংলাদেশ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ নানা প্রসঙ্গ স্থান পায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক গাফফার চৌধুরী, মুখ্য আলোচক ছিলেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর। আলোচনায় অংশ নিয়ে গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সব হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনিবার্য। শাহরিয়ার কবীর বলেন, দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। একাত্তর সালে যারা জাতির সুসন্তানকে হত্যা করেছিল সেই স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
হাইকোর্টের কর্মরত বিচারপতির উপস্থিতিতে এ ধরনের সভার খবর এটিএন বাংলা ও চ্যানেল এসসহ মিডিয়ায় প্রচারের পর এ নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। কমিউনিটিতে গত ক’দিন ধরে বিষয়টি আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল বলে লল্ডন থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। ওই বৈঠকের ছবিও লন্ডন থেকে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ডানের সারিতে সর্বপ্রথমে বসে আছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাসেম, এর পরই ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা শাহরিয়ার কবীর, এরপর বসে আছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি সুলতান শরীফ, চতুর্থ স্থানে গোল চিহ্নিত স্থানে বসে আছেন বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী, বাঁ পাশে প্রথমে বসে আছেন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি হাফিজুর রহমান মিনার, দূরে টেবিলের অপর মাথায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার রাশেদ চৌধুরী প্রমুখকে দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুকুল তালুকদার ডালটন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীসহ উল্লিখিত ব্যক্তিরা নানা বিষয়ে অনুষ্ঠানে তাদের অভিমত তুলে ধরেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, ডা. বিবি রায়, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, সুজিত সেন, কাউন্সিলর খলি কাজী, চিত্তরঞ্জন দাস, সওগাতুল আনোয়ার খান, রফিকুল ইসলাম মিল্টন, সাইফুদ্দিন মল্লিক খোকন, আলমগীর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত লোক উপস্থিত ছিলেন। উদ্যোক্তাদের একজন বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েই তারা এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সভায় বক্তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংবিধান সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় অতীতের সব হত্যা ও সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডের আশু বিচার দাবি করা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন বক্তা তাদের বক্তব্যে নানা বিষয় নিয়ে আসেন।
বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শাসনকালে সুপ্রিমকোর্টে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগে সরকার পক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারপতি হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলে তাকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়নি। এতে তিনি বিচারপতি পদ থেকে বাদ পড়েন। ফিরে আসেন আইন পেশায়। তবে স্থায়ী নিয়োগ না দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি মামলা করেন। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/09/26648
প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাংচুরকারী আইনজীবী হচ্ছেন বিচারপতি : সেই খুনের মামলাটি গতকাল প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রধান বিচারপতির এজলাসসহ সুপ্রিমকোর্টে ভাংচুরে নেতৃত্বদানকারী এক আইনজীবীকে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর ভাংচুরে নেতৃত্বদানকারী সেই আইনজীবী হচ্ছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি এ এফ এম মেসবাহ উদ্দিনের মেয়ের জামাতা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খসরুজ্জামান। ওই ঘটনার পর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ভাংচুর করা অবস্থায় তার সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নেতৃত্বে সেদিন সুপ্রিমকোর্টে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। এই তাণ্ডবে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী খসরুজ্জামান লাথি মেরে কোর্টের দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। সেই দরজা ভাঙার ছবিও পত্রিকায় ছাপা হয়। এছাড়া বিচারপতি নিয়োগের সম্ভাব্য তালিকায় এমন আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে খুনের মামলার প্রধান আসামি বিচারপতি হচ্ছেন বৃহস্পতিবার আমার দেশ-এ প্রকাশিত এই খবর নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবীদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সরকার পক্ষ গতকাল রাজশাহীতে ওই মামলাটি তড়িঘড়ি করে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আসলাম হত্যার বিচারাধীন মামলার প্রধান আসামি ছিলেন রুহুল কুদ্দুস বাবু, যিনি বিচারপতি হচ্ছেন। গতকাল বাবুসহ ৯ জনের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আদালতের একজন কর্মচারী তাকে জানিয়েছেন রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ আসামির নাম প্রত্যাহারের জন্য পিপি ইব্রাহিম আদালতে একটি দরখাস্ত দেন। এজাহারকারীর আইনজীবীকে কোনো রকমের শুনানির সুযোগ না দিয়েই পিপির দরখাস্ত আদালত মঞ্জুর করেছেন। এজাহারকারী নায়েব আলীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম জানান, এই প্রত্যাহার আদেশের বিরুদ্ধে শিগগিরই তারা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন মামলা দায়ের করবেন।
উল্লেখ্য, সরকার হাইকোর্ট বিভাগে আরও ১৫ জন অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে। এর মধ্যে জাসদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস রুহুল কুদ্দুস বাবুর নামও রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আসলাম হত্যার চার্জশিটভুক্ত একনম্বর আসামি তিনি। রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ২৫৯/২০০২ নং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ১৭ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল লতিফ হলের ছাত্র আসলাম প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এই থানায় ১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসের মামলা নং-১৪। এই মামলায় প্রধান আসামি হলেন তত্কালীন জাসদ ছাত্রলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস বাবু। মামলার এজাহারে বলা হয়, রুহুল কুদ্দুস বাবু কিরিচ দিয়ে আসলামকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ১নং আসামি রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জ গঠনের ওপর শুনানি শেষে আদালত বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। বাকি কয়েকজনকে চার্জ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এই অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে মামলার বাদী পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করে। রিভিশনের শুনানি শেষে ২০০৯ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে চার্জশিটভুক্ত সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য নিম্ন আদালতের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়। এই মামলাটি বর্তমানে রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। আসামিরা জামিনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিস্ট আইনজীবী।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারী আইনেও রয়েছে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হলে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকবেন। ফৌজদারি অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার পরই কেবল তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সিনিয়র আইনজীবীরা বলেন, ফৌজদারি অভিযোগের জন্য একজন সরকারি চাকরিজীবী সাময়িক বরখাস্ত হন। অথচ একটি খুনের মামলার আসামিকে সরকার হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে উচ্চআদালতকে কলঙ্কিত করছে। খুনের মামলার আসামি এখন বিচারকের আসনে বসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।
এদিকে গতকাল এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি রুহুল কুদ্দুস বাবুসহ ৯ আসামির নাম প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। আদালত প্রত্যাহার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আসলামের পরিবারের আইনজীবী জানান, হাইকোর্ট থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ থাকার পরও নাম প্রত্যাহার করার অর্থ হচ্ছে হাইকোর্ট ও দেশের প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করা। তিনি বলেন, এতেই প্রমাণ করে সরকার দেশে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। সরকার নিজের ইচ্ছামতো আদালতকে পরিচালিত করছে।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/04/09/26647
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টেন্ডারবাজির দায় জাতীয় পার্টি নেবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৯-০৪-২০১০
জাতীয় পার্টি বলেছে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টেন্ডারবাজিতে সাধারণ ঠিকাদারেরা আজ জিন্মি। মহাজোটের অংশীদার হলেও এ অপকর্মের দায় জাতীয় পার্টি নিতে পারে না।
আজ শুক্রবার মগবাজার টিঅ্যান্ডটি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রমনা থানার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এ কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন বিদ্যুত্, গ্যাসসংকটসহ কোনো বিষয়ে আওয়ামী লীগ জোটের বৃহত্ শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো আলোচনা করে না। তিনি দেশ ও জাতি গঠনে এবং দেশকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, এরশাদের সৈনিকেরা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই এক-এগারোর পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে জাতীয় পার্টির কোনো নেতা-কর্মী অভিযুক্ত হয়নি।
সৈয়দ সিরাজুল আরেফিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সাবেক সাংসদ আহসান হাবিব, ঢাকা মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-04-09/news/55333
জাতীয় পার্টি বলেছে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টেন্ডারবাজিতে সাধারণ ঠিকাদারেরা আজ জিন্মি। মহাজোটের অংশীদার হলেও এ অপকর্মের দায় জাতীয় পার্টি নিতে পারে না।
আজ শুক্রবার মগবাজার টিঅ্যান্ডটি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রমনা থানার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এ কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন বিদ্যুত্, গ্যাসসংকটসহ কোনো বিষয়ে আওয়ামী লীগ জোটের বৃহত্ শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো আলোচনা করে না। তিনি দেশ ও জাতি গঠনে এবং দেশকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, এরশাদের সৈনিকেরা সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই এক-এগারোর পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে জাতীয় পার্টির কোনো নেতা-কর্মী অভিযুক্ত হয়নি।
সৈয়দ সিরাজুল আরেফিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সাবেক সাংসদ আহসান হাবিব, ঢাকা মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-04-09/news/55333
সন্ত্রাস-খুন-টেন্ডারবাজি
দলকে সন্ত্রাসীমুক্ত করা সরকারের স্বার্থেই প্রয়োজন
Prothom-alo | তারিখ: ১০-০৪-২০১০
‘পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগ নেতা খুন’—শুক্রবারের প্রথম আলোর এই শিরোনাম এবং সঙ্গে দিনাজপুরে চকচকে চাপাতি হাতে সাধারণ ঠিকাদারদের ধাওয়ার ছবিটিই সব কথা বলে দিচ্ছে। দরপত্র দাখিল নিয়ে পঞ্চগড়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘাতে ঝরে গেল একটি প্রাণ। এবং সঙ্গে আহত হয়েছেন ১১ জন। রাজনৈতিকভাবে তাঁরা এক পক্ষের হলেও ১০টি সরকারি পুকুর ইজারার দরপত্র দাখিল নিয়ে তাঁরা নেমেছেন রক্তারক্তি প্রতিযোগিতায়। ওই দিনের প্রথম আলোর আরও কিছু সংবাদ এ রকম—দিনাজপুরে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের নেতৃত্বে ঠিকাদারদের ওপর হামলা, চট্টগ্রামে ঠিকাদারকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ‘যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রক্টর ও প্রাধ্যক্ষের লাঞ্ছনা। সব দেখেশুনে কেবল এটিই বলার রয়েছে, ‘এখনো গেল না আঁধার’; শেষ হলো না টেন্ডারবাজি-দখলবাজির রক্তারক্তির ধারা।
পঞ্চগড়ের ঘটনায় সারা শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, চলেছে উত্তেজনা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর। প্রশ্ন উঠতে পারে, ঠিকাদারেরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ নাকি ছাত্রলীগ-যুবলীগই ঠিকাদার-ব্যবসায়ী? দেশের ঠিকাদারি কাজে তো বটেই, অন্যান্য ব্যবসাক্ষেত্রেও দলীয় আধিপত্য স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সন্ত্রাসের এই বাণিজ্যিক খেসারতের দিকটিও উপেক্ষণীয় নয়।
বাংলাদেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস যেন মানিকজোড়। কোথাও সন্ত্রাস হলে ধরে নিতে হবে, তার কার্যকারণগুলোর মধ্যে দুর্নীতিও রয়েছে। আর তাতে অনিবার্যভাবে আসবে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নাম। দুঃখজনক যে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলের এই ধারাবাহিকতা এখনো চলতে পারছে। সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সোয়া এক বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীদের নিজেদের ও প্রতিপক্ষের মধ্যকার সন্ত্রাসে কম রক্ত ঝরেনি, কম প্রাণ অকালে হারিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তাদের কঠোর ভাষায় থামতে বলেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ‘সকলই গরল ভেল’। দুর্নীতির রজ্জুটি যেমন ওপর থেকে মধ্যম পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্যাডার পর্যন্ত নেমে এসেছে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতাতেই তেমনি সন্ত্রাস হয়ে উঠছে বেপরোয়া। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে শেকড় গেড়ে বসা সন্ত্রাস ও দুর্নীতির এই পৃষ্ঠপোষকদেরই আগে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেননা তাদের জন্যই সরকারের অনেক শুভ উদ্যোগও কলঙ্কিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে ভাবমূর্তি। এ বিষয়ে প্রথম আলো গোড়া থেকেই দায়িত্বশীল সমালোচনার মাধ্যমে প্রতিকারের চাহিদা ব্যক্ত করে আসছে।
এ অবস্থা যতটা অসহনীয় ও লজ্জাকর, প্রতিকারে ততটাই কঠোর ও লক্ষ্যভেদী হওয়া চাই। সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আদালতে বিচারের পাশাপাশি দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও বহিষ্কার করতে হবে। এটা করার জন্য প্রশাসনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পক্ষপাতহীন ও দক্ষ শিক্ষক-প্রশাসকদের দায়িত্ব দিতে হবে। তেমনি পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি। দেখতে হবে যাতে রাজনৈতিক চাপ তাঁদের বিব্রত ও ভীত না করে। সন্ত্রাসের এই কলঙ্কিত উত্তরাধিকার ত্যাগ করতে জাতীয় সঙ্কল্প প্রয়োজন। প্রয়োজন দল ও সরকারকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-04-10/news/55362
Prothom-alo | তারিখ: ১০-০৪-২০১০
‘পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগ নেতা খুন’—শুক্রবারের প্রথম আলোর এই শিরোনাম এবং সঙ্গে দিনাজপুরে চকচকে চাপাতি হাতে সাধারণ ঠিকাদারদের ধাওয়ার ছবিটিই সব কথা বলে দিচ্ছে। দরপত্র দাখিল নিয়ে পঞ্চগড়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘাতে ঝরে গেল একটি প্রাণ। এবং সঙ্গে আহত হয়েছেন ১১ জন। রাজনৈতিকভাবে তাঁরা এক পক্ষের হলেও ১০টি সরকারি পুকুর ইজারার দরপত্র দাখিল নিয়ে তাঁরা নেমেছেন রক্তারক্তি প্রতিযোগিতায়। ওই দিনের প্রথম আলোর আরও কিছু সংবাদ এ রকম—দিনাজপুরে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের নেতৃত্বে ঠিকাদারদের ওপর হামলা, চট্টগ্রামে ঠিকাদারকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ‘যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রক্টর ও প্রাধ্যক্ষের লাঞ্ছনা। সব দেখেশুনে কেবল এটিই বলার রয়েছে, ‘এখনো গেল না আঁধার’; শেষ হলো না টেন্ডারবাজি-দখলবাজির রক্তারক্তির ধারা।
পঞ্চগড়ের ঘটনায় সারা শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, চলেছে উত্তেজনা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর। প্রশ্ন উঠতে পারে, ঠিকাদারেরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ নাকি ছাত্রলীগ-যুবলীগই ঠিকাদার-ব্যবসায়ী? দেশের ঠিকাদারি কাজে তো বটেই, অন্যান্য ব্যবসাক্ষেত্রেও দলীয় আধিপত্য স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সন্ত্রাসের এই বাণিজ্যিক খেসারতের দিকটিও উপেক্ষণীয় নয়।
বাংলাদেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস যেন মানিকজোড়। কোথাও সন্ত্রাস হলে ধরে নিতে হবে, তার কার্যকারণগুলোর মধ্যে দুর্নীতিও রয়েছে। আর তাতে অনিবার্যভাবে আসবে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নাম। দুঃখজনক যে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলের এই ধারাবাহিকতা এখনো চলতে পারছে। সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সোয়া এক বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীদের নিজেদের ও প্রতিপক্ষের মধ্যকার সন্ত্রাসে কম রক্ত ঝরেনি, কম প্রাণ অকালে হারিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তাদের কঠোর ভাষায় থামতে বলেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ‘সকলই গরল ভেল’। দুর্নীতির রজ্জুটি যেমন ওপর থেকে মধ্যম পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্যাডার পর্যন্ত নেমে এসেছে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতাতেই তেমনি সন্ত্রাস হয়ে উঠছে বেপরোয়া। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে শেকড় গেড়ে বসা সন্ত্রাস ও দুর্নীতির এই পৃষ্ঠপোষকদেরই আগে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেননা তাদের জন্যই সরকারের অনেক শুভ উদ্যোগও কলঙ্কিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে ভাবমূর্তি। এ বিষয়ে প্রথম আলো গোড়া থেকেই দায়িত্বশীল সমালোচনার মাধ্যমে প্রতিকারের চাহিদা ব্যক্ত করে আসছে।
এ অবস্থা যতটা অসহনীয় ও লজ্জাকর, প্রতিকারে ততটাই কঠোর ও লক্ষ্যভেদী হওয়া চাই। সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আদালতে বিচারের পাশাপাশি দল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও বহিষ্কার করতে হবে। এটা করার জন্য প্রশাসনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পক্ষপাতহীন ও দক্ষ শিক্ষক-প্রশাসকদের দায়িত্ব দিতে হবে। তেমনি পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি। দেখতে হবে যাতে রাজনৈতিক চাপ তাঁদের বিব্রত ও ভীত না করে। সন্ত্রাসের এই কলঙ্কিত উত্তরাধিকার ত্যাগ করতে জাতীয় সঙ্কল্প প্রয়োজন। প্রয়োজন দল ও সরকারকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-04-10/news/55362
Subscribe to:
Posts (Atom)